চুয়াডাঙ্গা বার্তা

সত্য প্রকাশে আপোসহীন

জীবননগরে ফের সক্রিয় জুলাই মামলার আসামিসহ আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকেরা

ভোটের আগে জনমনে আতঙ্ক, প্রশাসনের নজরদারির দাবি

জীবননগর ২০২৪ জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন প্রতারণা মামলার একাধিক আসামি ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন, দলবদল ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

এর , বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মামলার আসামি টগরের ভাগিনা উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন কাজল। ৫ আগস্টের পর ৩ মাস তিনি পলাতল ছিলেন। সম্প্রতি সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও প্রতারণা মামলার আসামি জীবননগর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি প্রার্থী এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগার টগরের ভাতিজা মিথুন মাহমুদ সম্প্রতি এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেছেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সময় টগরের পিএস ও সাবেক এক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বেনীপুর বিল দখল, যাদবপুরসহ তিন জায়গায় নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি, ব্যবসায়িক সহযোগিতা বানিয়ে কয়েক জনের সঙ্গে প্রতারণার তথ্য রয়েছে।

 এবং মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আকিমুল ইসলামও এলাকায় সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আকিমুল ইসলাম সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে, তবে তিনি প্রকাশ্যে বিএনপির পক্ষে ভোট করার ঘোষণাও দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সার সিন্ডিকেট তৈরির প্রমাণ রয়েছে।

এদিকে জীবননগর পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ঢাকায় হত্যা মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলমের ভাই নাসিরের কুটুম হিসেবে পরিচিত মহিবুল ইসলাম মুকুলকেও বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। 

আর আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও কমিশনার জামাল খোকন ৫ আগস্টের পর বেশ কিছুদিন পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি তিনিও সাংবাদিকতার মাধ্যমে সক্রিয় হচ্ছেন।

এদিকে ৫ আগস্টের পর পলাতক থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতা মনিরুল ইসলাম, হাসান নিলয় ও কাজী সামসুল রহমান চঞ্চলও ফের সক্রিয় হয়েছেন। এর মধ্যে হাসান নিলয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান হাফিজের সারের ব্যবসাসহ তার পরিবারের দেখভাল করেন। তাদোর গোপনে ভারতে পলাতক সাবেক এমপি টগরের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। 

অপরদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত সাবেক এমপি আলী আজগার টগরের ঘনিষ্ঠ এম আর বাবু ও তার ভাই মুনৃসী খোকন জামায়াতে ইসলামীতে যোগাযোগ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সরকার আমলে দত্তনগরের পাঁচটি ফার্মে দীর্ঘ ১৬ বছর ওষুধ সরবরাহকারী এ্যানি ট্রেডার্সের মালিক মামুন বিএনপির প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করছেন বলেও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

জীবননগর পৌর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন,

“যারা মামলার আসামি, যারা পলাতক ছিল—তারা আবার প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। এতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসনের ভূমিকা আমরা পরিষ্কার দেখতে চাই।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় নেতারা বলেন, তারা একালায় চিহ্নিত। সাংবাদিকতার থেকে তারা রাজনীতিতে বেশি সক্রিয় ছিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তারা ৫ আগস্ট থেকে পলাতক ছিল৷ এখন তারা সক্রিয় হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তবে প্রশাসন নীরব। 

অন্যদিকে স্থানীয় জামায়াতের এক নেতা বলেন, যারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। তাদের অতীত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপরাধে জড়িত থাকলে আমরা কাউকে গ্রহণ করবো না। মামলার আসামি হলে আমরা তদন্ত করে তার গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

জীবননগর থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন,

“যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। কেউ আইন ভঙ্গ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *